
জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার পরিচয়ে আলোচনায় আসা আ ন ম আয়াসকে ঘিরে এবার মাদক সেবন ও তার অতীত পরিচয় নিয়ে গুরুতর দাবি করেছেন তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বাংলাদেশ ইনসাইটসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই ব্যক্তি দাবি করেন, আয়াস ইয়াবা সেবনে প্রবলভাবে আসক্ত। তবে এই দাবির পক্ষে বাংলাদেশ ইনসাইটস স্বাধীনভাবে কোনো মাদক পরীক্ষার প্রতিবেদন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথি যাচাই করতে পারেনি।
ওই বন্ধুর দাবি, আয়াসের পূর্বপরিচিত নাম ছিল ‘উজ্জ্বল’। ঢাকায় আসার পর ধীরে ধীরে পুরোনো পরিচয় আড়ালে রেখে ‘আয়াস’ নামে নতুন পরিচিতি গড়ে তোলেন তিনি। জুলাই আন্দোলনের পর আন্দোলনের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততাকে সামনে রেখে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করেন ওই ব্যক্তি।
বর্তমানে আয়াস রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের সঙ্গে যুক্ত। সাম্প্রতিক সংবাদ প্রতিবেদনেও তাকে সংগঠনটির নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গত জুলাইয়ে জুলাই আন্দোলন নিয়ে কথিত ‘অবমাননাকর’ বক্তব্যের ঘটনায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করার সময় তিনি সংগঠনটির সদস্যসচিব হিসেবে সামনে এসেছিলেন। সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাকে সংগঠনটির নতুন সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ ইনসাইটসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই বন্ধু আরও দাবি করেন, আয়াস বিভিন্ন সময়ে দলবল নিয়ে ব্যক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন। চাঁদাবাজির সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব আর্থিক অনিয়মের দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নথি বাংলাদেশ ইনসাইটসের হাতে আসেনি।
আয়াসকে ঘিরে এর আগেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ভিডিও ধারণ, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান এবং খাবার বিতরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিন ব্যক্তিকে মারধরের খবর প্রকাশিত হয়। প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে ঘটনাস্থলে আয়াস ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়। আয়াস অবশ্য সাংবাদিকদের কাছে ‘মব’ তৈরির বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাব ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনাতেও গত আগস্টে আয়াসের নাম সামনে আসে। সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষ তখন সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছিল।
তবে বাংলাদেশ ইনসাইটসকে দেওয়া বন্ধুটির সর্বশেষ বক্তব্যে ওঠা ইয়াবা আসক্তি, ‘উজ্জ্বল’ নামের পূর্বপরিচয় এবং চাঁদাবাজির দাবিগুলো এখন পর্যন্ত ওই ব্যক্তির বক্তব্য হিসেবেই বিবেচ্য। এসব দাবি প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে নিশ্চিত করার মতো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আয়াস এসব বিষয়ে বক্তব্য দিলে তার অবস্থানও প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।